লাইফস্টাইল

ব্ল্যাক কফি পানের ৭ সম্ভাব্য উপকারিতা

দুধ, চিনি বা ক্রিম মেশানো কফি থেকে সরাসরি ব্ল্যাক কফিতে অভ্যস্ত হওয়া অনেকের কাছেই বড় পরিবর্তন মনে হতে পারে। স্বাদে ভিন্নতা থাকলেও ক্যাফেইনের পাশাপাশি ব্ল্যাক কফিতে রয়েছে বেশ কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ। কম ক্যালোরি থেকে শুরু করে লিভারের স্বাস্থ্য, বিপাকক্রিয়া ও শারীরিক কর্মক্ষমতায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। ব্ল্যাক কফি পান করলে কী কী উপকার মিলতে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক—

১. ক্যালোরি খুবই কম

চিনি, দুধ বা ক্রিম ছাড়া এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে সাধারণত মাত্র ২ থেকে ৪ ক্যালোরি থাকে। বিপরীতে দুধ, চিনি, ক্রিম কিংবা ফ্লেভারযুক্ত সিরাপ যোগ করলে কফির ক্যালোরি অনেক বেড়ে যায়। তাই ব্ল্যাক কফি বেছে নিলে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি ছাড়াই কফি উপভোগ করা সম্ভব।

২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস

কফির বীজে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে কফির উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনের প্রভাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

৩. লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে

বিভিন্ন গবেষণায় কফি পান এবং লিভারের সুস্বাস্থ্যের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে লিভারের কিছু রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।

২০২৬ সালে সিডার্স-সিনাইয়ের গবেষকদের একটি গবেষণা Clinical Gastroenterology and Hepatology জার্নালে প্রকাশিত হয়। এতে যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংকের ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীকে গড়ে ১৩ বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিন পাঁচ বা তার বেশি কাপ কফি পান করেন, তাদের সিরোসিসের ঝুঁকি কফি না-পানকারীদের তুলনায় ৩২ শতাংশ, লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪৭ শতাংশ এবং লিভার-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কম ছিল। কফি পানকারীদের লিভার স্ক্যানেও তুলনামূলক কম চর্বি, প্রদাহ ও ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।

৪. গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে

কিছু গবেষণায় কফি পান এবং গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, কফি শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড অপসারণে সহায়তা করতে পারে। তবে গেঁটেবাতের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে কফিকে বিবেচনা করা উচিত নয়।

২০২৫ সালে Nutrition Research and Practice-এ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় একাধিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কফি পান হাইপারইউরিসেমিয়া ও গেঁটেবাতের কম ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কিছু কোহর্ট গবেষণায় কফি পানকারীদের গেঁটেবাতের ঝুঁকি কফি না-পানকারীদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক পাওয়া গেছে।

৫. ব্যায়ামের আগে বাড়তি শক্তি দিতে পারে

ওয়ার্কআউটের আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফি অনেকের জন্য কার্যকর প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মূল কারণ ক্যাফেইন, যা পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক কর্মক্ষমতাতেও সহায়তা করতে পারে।

৬. বিপাকক্রিয়া কিছুটা বাড়াতে পারে

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ব্ল্যাক কফির কথা প্রায়ই বলা হয়। কারণ ক্যাফেইন শরীরের মেটাবলিক রেট সামান্য বাড়াতে পারে। তবে এই প্রভাব সীমিত এবং শুধু কফি পান করলেই ওজন কমবে—এমনটি নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এটি কেবল সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. কফির প্রকৃত স্বাদ উপভোগের সুযোগ দেয়

ব্ল্যাক কফির তিক্ত স্বাদ শুরুতে অনেকের কাছেই অপছন্দনীয় মনে হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হলে কফির বীজের নিজস্ব স্বাদ ও সুবাস আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব।

নতুনদের জন্য হালকা রোস্টের কফি কিংবা ফ্রেঞ্চ প্রেস, মোকা পট বা কোল্ড ব্রুর মতো তুলনামূলক মসৃণ ব্রুইং পদ্ধতি দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। এতে ব্ল্যাক কফির স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।

Back to top button