সাইবার হামলা মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতির তাগিদ মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ক্রমবর্ধমান ও জটিল সাইবার হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রস্তুতি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং যেকোনো ধরনের বিঘ্নের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল। বুধবার সেলাঙ্গরের বাংগিতে আয়োজিত ৬ষ্ঠ ইন্টারন্যাশনাল সাইবার রেজিলিয়েন্স কনফারেন্স (CRC 2026) উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে জ্ঞান, গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্মেলনে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সাইবার হুমকির ধরন দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সাইবার হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা থাকলেই হবে না; হামলার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য কার্যক্রম যাতে সাইবার হামলা বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত বিঘ্নের কারণে বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য একটি সমন্বিত ও সহযোগিতামূলক সাইবার রেজিলিয়েন্স কাঠামো প্রয়োজন।
সাইবার নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কথাও তুলে ধরেন সাইফুদ্দিন নাসুশন। বিশেষ করে ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার সনাক্তকরণ, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, সাইবার স্থিতিস্থাপকতা বা ‘সাইবার রেজিলিয়েন্স’ জোরদারে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না। এর সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সহায়তা এবং মানুষের আচরণকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সম্মেলনে সাইবার ক্রাইম ফিউশন সেন্টার (CCFC) প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা নিয়ে পরিচালিত সমীক্ষা বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। এ পর্যায়ে কেন্দ্রটির গভর্ন্যান্স মডেল ও অপারেশনাল মডেল তৈরির কাজ চলছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের মধ্যে ধারাবাহিক সমন্বয় ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় সম্মেলনে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফল শুধু একাডেমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে তা নীতি প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, পরিচালন ব্যবস্থা এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধানে কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের উপমহাসচিব দাতো হাজি আবদুল হালিম আবদুল রহমান, নীতি ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপমহাসচিব দাতুক হাজি মাখজান মাহিউদ্দিনসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার মহাপরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় সাইবার নিরাপত্তাকে এখন কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সরকারি সেবা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষার সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে ভবিষ্যৎ সাইবার হুমকি মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় সমন্বয় ও কার্যকর প্রস্তুতি আরও জোরদার করা জরুরি।