জলবায়ু পরিবর্তনহাই লাইটস

কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত,সারাদেশে ৫৬৯ টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত

উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বেড়েছে। ইতিমধ্যে কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ১হাজার ২২৭ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত। জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে পানি বৃদ্ধি পেলেও ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর দুই তীরের অববাহিকায় রোপা আমন, সবজি, মাসকালাইসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন খাল, ডোবা ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তথ্য মতে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১২শ ২৭ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে রোপা আমন ৯৮৭ হেক্টর, বিভিন্ন শাক-সবজি ১৯১ হেক্টর, মাসকলাই ৪৯ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি টানা বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে সেক্ষেত্রে এ বছর রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হবে। এতে কৃষকরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, আমার উপজেলার বজরা ও থেতরাই ইউনিয়নের কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করেছে। আমি ত্রাণ কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি আমিও একটু পরে যাব।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, জেলায় শুকনো খাবার ২ হাজার ৫০০ টন, চাল ৪২৪ টন এবং নগদ ১৪ লাখ টাকা রয়েছে। আমাদের খাদ্য পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা হবে না।

*সারাদেশে ৫৬৯ টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত:

সারাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত ৫৬৯ টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের
‘বন্যা প্রবণ ও নদীভাঙ্গন এলাকায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিডি মো. কামরুল আহসান।

তিনি বলেন,‘ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের আশ্রয়ের জন্য আমরা প্রকল্প থেকে বন্যা প্রবণ এলাকায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করেছি। তবে, এখনো আমাদের তৈরি করা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয়ের জন্য কোন মানুষ আসার খবর পাওয়া যায়নি। তবে, বন্যা যদি বাড়ে বা লোকজন আসতে চাইলে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তত আছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। অধিক জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান, গ্রীস্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় বেসিনে অবস্থান এবং সক্রিয় বর্ষাকালে অতি বৃষ্টি দুর্যোগপ্রবণতার মূল কারণ। বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে গ্রীস্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প ও বড় মাত্রার ঘূর্ণিঝড় নিয়মিতভাবে দেখা দেয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় ২৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড বন্যা কবলিত হয়। ব্যাপকভাবে বন্যা হলে দেশের ৫৫ শতাংশের অধিক ভূখণ্ড বন্যার প্রকোপে পড়ে। প্রতি বছর গড়ে বাংলাদেশে তিনটি প্রধান নদীপথে মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আদ্র মৌসুমে ৮৪৪ মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হয়। বৃষ্টির কারণে দেশের অভ্যন্তরে ১৮৭ মিলিয়ন কিউবিক মিটার নদী প্রবাহ সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে নদী, খাল, বিল, হাওর ও নিচু এলাকা ছাড়িয়ে সমস্ত জনপদ পানিতে ভেসে যায় এবং ফসল, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সহায়-সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে।

আশ্রয় কেন্দ্রগুলো দুর্যোগ কালীন সময়ে বিপদাপন্ন মানুষ ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং প্রাণী সম্পদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়। এ ছাড়া অন্য সময় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উন্নত পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া হয়।

Back to top button