
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকুরেদের নতুন পে স্কেলের ঘোষণার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছিল।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর সুবিধা পেতে শিক্ষকদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির কথা রয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সুখবর দিয়ে বলেছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির পৃথক গেজেট জারি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে মৌখিকভাবে আলোচনা হয়েছে। মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের কারণে বিষয়টি এতোদিন আটকে ছিল বলে সূত্রে জানা গেছে। তিনি দেশে ফেরার পর বিষয়টি গতি পেয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন দেশে না থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেলের পৃথক গেজেটের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। তার এ সপ্তাহে এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দেশে ফিরেছেন। এখন এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখার অপেক্ষায় শিক্ষকরা।
প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেল পাবেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাতে হবে। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই বেসরকারি জনবলকে নবম পে-স্কেলের সুবিধা দিতে সম্মতি দিয়ে চিঠি দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট জারি করা সম্ভব হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত পৃথক গেজেট জারি করা সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।