পৃথিবী কেন কখনোই একসঙ্গে খরাকবলিত হয় না

জলবায়ু পরিবর্তনসহ আবহাওয়াগত বিভিন্ন কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা দেয় খরা। আর তাই বিশ্বজুড়ে খরা বা পানিশূন্য অবস্থাকে কখনোই আকস্মিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কোনো কোনো বছর একাধিক মহাদেশজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করলেও পুরো পৃথিবী কিন্তু কখনোই একসঙ্গে খরাকবলিত হয় না। সম্প্রতি সেলফ–ক্যালিব্রেটিং পালমার ড্রাউট সিভিয়ারিটি ইনডেক্স ব্যবহার করে পৃথিবী কেন কখনোই একসঙ্গে পুরোপুরি পানিশূন্য হয় না, তার কারণ খুঁজে বের করেছেন ভারতের বিজ্ঞানী উদীত ভাটিয়া।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় চক্র এই প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। এল নিনো চলাকালীন সাধারণত অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে খরা দেখা দেয়। অন্যদিকে লা নিনা এই শুষ্কতাকে আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার দিকে সরিয়ে দেয়। নেটওয়ার্ক মডেল অনুযায়ী, এল নিনো আঞ্চলিক খরার যোগসূত্রকে আরও দৃঢ় করে নির্দিষ্ট কিছু পকেট বা এলাকা তৈরি করে। কিন্তু লা নিনা এই খরাকে ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো একক মহা খরা সৃষ্টি হতে পারে না। মহাসাগরের এই পরিবর্তনশীলতা আর্দ্রতাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করে থাকে।
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাষ্পীভবনের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জলবায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে তাপমাত্রা বাড়লেও বৃষ্টির ধরনই নির্ধারণ করে কোন অঞ্চলটি বেশি শুষ্ক হবে। কয়েক দশকের তথ্য বলছে, খরার ক্ষেত্রে বৃষ্টির তারতম্যই সবচেয়ে বড় প্রভাবক। বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনের কারণে বৃষ্টি কখনোই বিশ্বজুড়ে একযোগে বন্ধ হয় না। যখন একটি সমুদ্র অববাহিকা উষ্ণ হয়, অন্যটি শীতল থাকে। ফলে পৃথিবী এক নিশ্বাসে শুকিয়ে যায় না; বরং অঞ্চলভেদে চাপের মুখে পড়ে। প্রকৃতির এই জটিল ভারসাম্যই বিশ্বকে একযোগে পানিশূন্য হওয়া থেকে রক্ষা করছে।