এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল। ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে কয়েকজন উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশপ্রধান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আসলে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করব, এটাই আমাদের কাজ। জাতির জন্য এটা বড় এক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের নিতে হবে এবং এ বিশাল কাজটি শেষ করে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। নির্বাচনের দিন যেন কোনো কিছুর অভাব বোধ না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি কোথাও যেন কোনো গলদ না থাকে। ইসির নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ, ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। এখন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এবারের নির্বাচনে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হবে।’
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনো রকম ঘাটতি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এবার দেশ ও বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক নির্বাচন কাভার করবেন এবং দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছেন, এ বিষয়ে সুপার সিরিয়াস থাকতে হবে।’
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নির্বাচন আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। এ প্রেক্ষাপটে বৈঠকে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি—এই দুই দিকই গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচনসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি রিভিউ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন সভায় নিশ্চিত করেছে যে ৩০০ আসনে একই দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে—এ দুই আসনসহ সব আসনেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে নির্বাচন হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৬৪ জন জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ মোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সংখ্যা ৫৯৮ জন।’
ছবি: সংগৃহীত